শিলিগুড়িতে টাকা হাতিয়ে বাচ্চা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ অনাথ আশ্রমের মালিকের বিরুদ্ধে

শিলিগুড়ি,৫ ডিসেম্বরঃ বেশকিছুদিন ধরেই বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মের অভিযোগ উঠে আসছিল উত্তরবঙ্গ অনাথ আশ্রমের দায়িত্বে থাকা উমা মল্লিকের বিরুদ্ধে। আবারও এক দম্পতির থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা এবং বাড়ির আসবাবপত্র আটকে রাখার অভিযোগ উঠল উমা মল্লিকের বিরুদ্ধে। এদিন শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের বাসিন্দা রাজবীর সরকার এবং শিবাঙ্গী সরকার জানান প্রায় তিন বছর আগে তারা বিয়ে করে বাংলাদেশ থেকে কলকাতার নিউটাউনে আসে। ফেসবুকে পরিচয় হয় শিলিগুড়ির মধ্য চয়নপাড়ার বাসিন্দা উমা মল্লিকের সাথে। এরপর উমা মল্লিকের সাথে তাদের এক পারিবারিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয় এবং উমা মল্লিক ওই দম্পতিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। অভিযোগ এরপরেই টাকা সামলে রাখার নাম করে দম্পতির কাছ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় উমা মল্লিক। পাশাপাশি রাজবীর এবং শিবাঙ্গী সরকারের আবারও বিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পুরুষ ও মহিলাকেও নিয়ে আসেন তিনি। রাজবীর এবং শিবাঙ্গী দেবীর সাড়ে তিন মাসের একটি শিশু রয়েছে, সেই শিশুটিকে বিক্রি করার চক্রান্তও করেন বলে অভিযোগ দম্পতির। তবে উমা মল্লিক তার কোনো উদ্যেশ্যেই সফল হতে না পারলে এরপর দম্পতিকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে উমা মল্লিকের বাড়ি থেকে ১ ডিসেম্বর বেরিয়ে আসে রাজবীর এবং শিবাঙ্গী সরকার। তবে তাদের সমস্ত টাকা রয়ে গিয়েছে উমা মল্লিকের কাছে এবং কলকাতার ফ্ল্যাটের সমস্ত আসবাবপত্র রয়েছে কাচড়াপাড়ায় উমা মল্লিকের স্বামী শ্যামল মল্লিকের কাছে। টাকা, আসবাবপত্র দিতে নারাজ উমা মল্লিক, এবং দম্পতিকে বাংলাদেশ থেকে আগত বলে বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছেন এমনটাই অভিযোগ রয়েছে। সম্পূর্ন ঘটনার ভিত্তিতে ভক্তিনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ওই দম্পতি। তাদের দাবী দেড় লক্ষ টাকা এবং সকল আসবাবপত্র তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।


অন্যদিকে এ বিষয়ে উমা মল্লিক জানান, ফেসবুকে যখন ওই দম্পতির সাথে তার পরিচয় হয় তখন তিনি জানতেন না যে তারা বাংলাদেশ থেকে আগত। শিবাঙ্গী সরকার গর্ভাবস্থায় থাকায় তিনি মানবিকতার খাতিরেই তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে টাকা আটকে রাখা এবং বাচ্চা বিক্রির চক্রান্ত সহ তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই তিনি অস্বীকার করেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.