রাজগঞ্জ, ৯ জানুয়ারিঃ বন্য শূকরের হামলায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির, গুরুতর আহত আরও দুজন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলাতিপাড়া গ্রামে।
মৃত ব্যক্তির নাম রাতিয়া ওঁরাও(৪৮)।পেশায় চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন।আহতদের নাম বাবলু ওঁরাও ও মদন মাঝি। বাবলু ওঁরাওকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মদন মাঝি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল দুপুরে বাড়ির পাশের চা বাগানে কাজ করার পর রাতিয়া ওঁরাও একটি গাছের নীচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।সেইসময় আচমকাই একটি বন্য শূকর তার উপর হামলা চালায়।গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সময়ে ওই বন্য শূকর আরও দুজনকে আক্রমণ করে।ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় রাতিয়া ওঁরাওকে দ্রুত উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আজ মৃতের বাড়িতে যান রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়।তার সঙ্গে ছিলেন রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুপালি দে সরকার, ব্লক সভাপতি অরিন্দম ব্যানার্জি, রনবীর মজুমদার সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্বরা।শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই এলাকায় হাতি, বাঘ সহ বিভিন্ন বন্য পশুর উপদ্রব বেড়ে চলেছে। বনদপ্তরের তরফে পর্যাপ্ত টহল না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাদের।দ্রুত বনদপ্তরের বাড়তি টহলদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
এই প্রসঙ্গে বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।আমার এলাকায় এই প্রথম বন্য শূকরের হামলায় একজনের মৃত্যু হল।আজ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছি।বনদপ্তরের তরফে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
এই বিষয়ে বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার রাজকুমার পাল জানান, বন্য শূকরের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে।মৃতের পরিবারকে বনদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সম্ভবত পার্শ্ববর্তী জঙ্গল থেকেই শূকরটি এসেছিল।বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এলাকায়।
