রাজগঞ্জ, ২ অক্টোবরঃ কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যু, ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রাজগঞ্জের নোধাবাড়িতে।
শুক্রবার সকালে মান্তাদাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নোধাবাড়ি এলাকার চা বাগান থেকে একটি দাঁতাল হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করে বন দফতর। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বন দফতরের অনুমান, কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চা বাগান পেরিয়েই রয়েছে চাষের ধানখেত। বন্যপ্রাণীর আনাগোনা রুখতে ধানখেত সংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের ফেন্সিং তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেও নিয়মমাফিক হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন বনকর্মীরা। রাত প্রায় ১টা নাগাদ এলাকায় টহল দেওয়া হয়।
এরপর শুক্রবার সকালে চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় একটি হাতি পড়ে থাকার খবর আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বেলাকোবা ও আমবাড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা।পাশাপাশি গজলডোবা ফাঁড়ির পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।সেখানে একটি দাঁতাল হাতির মৃতদেহ দেখতে পান তারা।
ঘটনাস্থলে বনকর্মীরা দেখতে পান, চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। হাতিটির শুঁড়ে আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরের কিছু অংশে কালো হয়ে যাওয়ার দাগও রয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বন দপ্তরের অনুমান, কাঁটাতারের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলে সেই তারে জড়িয়ে বা সংস্পর্শে এসে শুঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতিটির মৃত্যু হতে পারে।
এদিকে জমির মালিককে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক মালিক।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কাঁটাতারে বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছিল কিনা, ফেন্সিংটি কী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল এবং তার সঙ্গে হাতিটির মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কিনা, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে বন দফতর, পুলিশ ও বিদ্যুৎ দফতর।





