ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ বিভাগে রাজ্যে প্রথম শিলিগুড়ির সৃজা, গর্বিত শহরবাসী  

শিলিগুড়ি, ৩০ জানুয়ারিঃ ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ বিভাগে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ইতিহাস গড়লেন শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ার মেয়ে সৃজা নমোশর্মা।মাত্র ২৬ বছর বয়সে অসামান্য সাফল্যে শুধু নিজের পরিবারই নয়, শিলিগুড়ি তথা গোটা উত্তরবঙ্গের মুখ উজ্জ্বল করলেন সৃজা।


সৃজার বাবা বাবুল নমোশর্মা দীর্ঘদিন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার হিসেবে তিনি সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।ছোটবেলা থেকেই বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন সৃজাও।

যদিও তার এই স্বপ্নপূরণের পথ ছিল সহজ ছিল না।২০১৮ সালে বাবুল নমোশর্মার দুটি কিডনি বিকল হয়ে যায়।দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলাকালীন বিপুল আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবার।সেই পরিস্থিতিতে প্রাইভেট কোচিং তো দূরের কথা, স্বাভাবিক পড়াশোনাই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।২০২৩ সালের নভেম্বরে আচমকাই সৃজার বাবার মৃত্যু হয়।বাবার মৃত্যুর পর সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেই ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় বসেন সৃজা।


গত মঙ্গলবার ফল প্রকাশ হতেই জানা যায়, রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। সৃজা শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। পরে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৩-২৪ সালে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মোট সাতটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে প্রতিটিতেই সফল হন তিনি।কোন কোচিং ছাড়াই সবটাই নিজের চেষ্টায় এই সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

বর্তমানে কলকাতার কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (CSIR) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত সৃজা। কয়েকদিন আগে ছুটিতে শিলিগুড়ির বাড়িতে এসেছেন।এইসময়ই আসে স্বপ্নপূরণের খবর।তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা পরিবারে।

যদিও সৃজার আক্ষেপ আজ তার বাবা নেই, মেয়েকে পুলিশের উর্দিতে দেখতে পারবেন না তিনি। সৃজা জানান, আপাতত পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আইপিএস হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার।

সৃজার সাফল্যের খবর পেয়েই সংবর্ধনা জানাতে তার বাড়িতে যান শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন,সৃজার এই সাফল্য শহরের মেয়েদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা।সৃজাকে দেখে শিলিগুড়ির আরও বহু মেয়ে পড়াশোনায় মন দিয়ে ডব্লিউবিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *