বয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য পড়ে যাওয়ার ঘটনাকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু কখনও কখনও এই ধরনের পড়ে যাওয়া হাড়ের এমন কোনও আঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে, যার জন্য দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, অস্টিওপোরোসিস, পেশির দুর্বলতা এবং ভারসাম্যজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে আপাতদৃষ্টিতে সামান্য পড়ে গেলেও হাড়ে চিড় বা ফ্র্যাকচার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসায় দেরি হলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, চলাফেরার ক্ষমতা কমে যাওয়া, স্বনির্ভরতা হারানো এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানের অবনতি ঘটতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে আঘাত দ্রুত শনাক্ত করা এবং সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।
সময়মতো চিকিৎসা পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়ির কনসালট্যান্ট—অর্থোপেডিক্স, ডা. পঙ্কজ কুমার বলেন, “অনেক বয়স্ক মানুষ সামান্য পড়ে যাওয়ার পর ব্যথা নিজে থেকেই কমে যাবে মনে করে বিষয়টিকে উপেক্ষা করেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সাধারণভাবে পিছলে পড়ার মতো ঘটনাতেও কোমর, কবজি, কাঁধ বা মেরুদণ্ডে ফ্র্যাকচার হতে পারে। পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা, হাঁটতে সমস্যা, শরীরের ওজনের ভার নিতে না পারা বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নড়াচড়া সীমিত হয়ে গেলে তা কখনওই উপেক্ষা করা উচিত নয়, এমনকি অস্বস্তি সামান্য মনে হলেও। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা জটিলতা প্রতিরোধ, চলাফেরার সক্ষমতা বজায় রাখা এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।”
বয়স্কদের মধ্যে আঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হল পড়ে যাওয়া, যা তাঁদের শারীরিক স্বনির্ভরতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু আঘাত সঙ্গে সঙ্গে বোঝা গেলেও, কিছু ক্ষেত্রে আঘাতের লক্ষণ প্রথমে স্পষ্ট হয় না এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গুরুতর আকার নিতে পারে। কোমরের মতো শরীরের ওজন বহনকারী হাড়ে ফ্র্যাকচার হলে চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
বয়স্কদের মধ্যে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হল অস্টিওপোরোসিস। এই রোগের কারণে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাড়ের ক্ষয় অনেক সময় নীরবে এগিয়ে চলে। তাই নিয়মিত হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যাঁদের আগে ফ্র্যাকচার হয়েছে, শারীরিক সক্রিয়তা কম অথবা পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে।
অর্থোপেডিক চিকিৎসাক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বয়স্কদের ফ্র্যাকচার নির্ণয় ও চিকিৎসা আরও উন্নত হয়েছে। আঘাতের ধরন ও মাত্রার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার মধ্যে ওষুধ, আক্রান্ত অংশ স্থির রাখা, ফিজিওথেরাপি, ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে ফ্র্যাকচার ফিক্সেশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হলে সুস্থতা ও চলাফেরার সক্ষমতা আরও ভালোভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ফ্র্যাকচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুধুমাত্র আঘাতের চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফিজিওথেরাপি, পেশির শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম এবং চলাফেরার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বয়স্কদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং পরিবারের সদস্য বা পরিচর্যাকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ দ্রুত ও মসৃণ পুনর্বাসনে সহায়তা করে।
বয়স্কদের হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং বাড়ির পরিবেশকে নিরাপদ করে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর মতো পদক্ষেপ হাড়কে শক্তিশালী করতে এবং আঘাত প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, হাঁটতে সমস্যা বা চলাফেরায় পরিবর্তনের মতো লক্ষণগুলির দিকেও পরিচর্যাকারীদের বিশেষ নজর রাখা উচিত।
উন্নত রোগ নির্ণয়ের পরিকাঠামো, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সমন্বিত অর্থোপেডিক পরিষেবার মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হাড় ও জয়েন্টের চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করে চলেছে। পড়ে যাওয়ার পর বয়স্ক ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য বা পরিচর্যাকারীদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং হাড়ের স্বাস্থ্য, চলাফেরার ক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মণিপাল হসপিটাল সম্পর্কে কিছু তথ্য:
মণিপাল হসপিটালস ভারতের অন্যতম প্রধান সমন্বিত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর প্রায় ৮০ লক্ষ রোগীকে পরিষেবা প্রদানকারী এই প্রতিষ্ঠান সহজলভ্য ও উচ্চমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। বর্তমানে মণিপাল হসপিটালসের সর্বভারতীয় নেটওয়ার্কে ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৫০টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে ১৩,৪০০-এরও বেশি অনুমোদিত শয্যা রয়েছে। শয্যা সংখ্যার বিচারে এটি ভারতের বৃহত্তম মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল নেটওয়ার্ক। এই পরিষেবা ব্যবস্থাকে ১১,০০০-এরও বেশি চিকিৎসক এবং ২৫,০০০-এর বেশি কর্মী সমর্থন করছেন।
রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মণিপাল হসপিটালস উন্নত প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে একত্রিত করে দেশ-বিদেশের বহু রোগীকে পরিষেবা প্রদান করে। চিকিৎসার মান ও পরিচালনাগত উৎকর্ষের প্রতি প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক গুরুত্ব NABH স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। মণিপাল হসপিটালসের একাধিক প্রতিষ্ঠান NABL-এর স্বীকৃতিও পেয়েছে এবং নার্সিং ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় উৎকর্ষের জন্য স্বীকৃত হয়েছে।
(বিজ্ঞাপন)