শিলিগুড়ি,৮ সেপ্টেম্বরঃ শুরু হচ্ছে পুজোর মরশুম।ইতিমধ্যেই ব্যস্ততা বেড়েছে শিলিগুড়ির কুমোরটুলিতে। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও বাড়ছে চিন্তা। কারণ প্রতিমা তৈরির মাটি থেকে শুরু করে বাঁশ, সুতলি, কাপড়, রং ও অলংকার সহ প্রায় সমস্ত কাঁচামালের দামই বেড়েছে। ফলে চাপে রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
সামনেই রয়েছে একের পর এক উৎসব।প্রথমে গণেশ পুজো, তারপর বিশ্বকর্মা পুজো, আর তার পরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। হাতে সময় কম থাকায় বর্তমানে দিন রাত এক করে কাজ করছেন শিল্পীরা। কেউ শেষ মুহূর্তে গণেশ প্রতিমার কাজ সারছেন, কেউ ব্যস্ত বিশ্বকর্মার মূর্তি গড়তে। কুমোরটুলিতে তৈরি হচ্ছে নানা আকৃতির, নজরকাড়া গণেশ প্রতিমা।
তবে ব্যস্ততার মধ্যেও শিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে অনেকটাই। কিন্তু সেই বাড়তি খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিমার দাম বাড়ানো সহজ নয়। বেশি দাম চাওয়া হলে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক মৃৎশিল্পীই ‘অর্ডার অনুযায়ী কাজ’-এর দিকে ঝুঁকছেন। অর্ডার ছাড়া অতিরিক্ত প্রতিমা তৈরি করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অধিকাংশই। তাদের আশঙ্কা, সব পুজো কমিটি এবার সরকারি সহায়তা নাও পেতে পারে। ফলে পুজোর বাজেট কমে গেলে প্রতিমা কেনার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে গণেশ পুজোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। হাতে থাকা অর্ডারের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদে ব্যস্ত কুমোরটুলি। এর পরেই বিশ্বকর্মা পুজো, তারপরই দুর্গাপুজো যার জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কিছু অর্ডার এসেছে। তবে বাড়তি প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে এবার অনেকটাই সতর্ক শিল্পীরা।
একদিকে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা এই দুইয়ের মাঝে পড়ে হিসেব কষেই এগোতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের। তবুও থেমে নেই কাজ। আপাতত কুমোরটুলিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে।উৎসবের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত হচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা।