শিলিগুড়ি, ৬ অক্টোবর: গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর পর তদন্তে গতি আনল পুলিশ। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি আরএফএসএলের ফরেনসিক দলের সদস্যরা তারাবাড়ি এবং ধিমাল এলাকায় পৌঁছে দুটি ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনাস্থলে থেকে বিভিন্ন নমুনা, তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন ফরেনসিক আধিকারিকেরা। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলে তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ভোরে তারাবাড়ি এলাকায় গরু চুরি করতে আসে একটি দল। স্থানিয়রা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। একটি গাড়ি ভাঙচুর ও একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। গাড়িতে থাকা পাঁচজন পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাদের ধাওয়া করে ধিমাল এলাকায় ধরে ফেলে। অভিযোগ, এরপর তাদের মারধর করা হয়।
এই ঘটনায় চোপড়ার বাসিন্দা শাহেদ আখতারের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। অন্যদিকে হরিয়ানার বাসিন্দা সাদ মহম্মদ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যান্য আহতদের পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসা করানো হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে গরু চুরির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।তাদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় কয়েকজন স্থানীয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেনা এলাকার ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন। সেনা জওয়ানরা তাদের মধ্যে চারজনকে আটক করে পরে বাগডোগরা থানায় হাতে তুলে দেয়।
এদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনিতে জড়িত ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।ঘটনায় যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।





