গজলডোবা, ২২ সেপ্টেম্বরঃ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিস্তার প্রবল স্রোত থেকে হস্তিশাবককে উদ্ধার, সাহসী পাঁচজনকে দেওয়া হল সংবর্ধনা।
তিস্তার প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল ছোট্ট হস্তিশাবক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা নিয়ে উত্তাল নদীতে নেমে সেই শাবককে উদ্ধার করেছিলেন পাঁচ মৎস্যজীবী। তাদের সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হল।
গজলডোবার ১২ নম্বর এলাকায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শিলিগুড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাঁচ মৎস্যজীবীর হাতে মানপত্র ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাঁচ মৎস্যজীবী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জার সমীরণ রাজ, আপালচাঁদ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার নবাঙ্কুর ঘোষ, সমাজসেবী মনোজ শর্মা, পরিবেশপ্রেমী সংস্থার দ্বীপজ্যোতি চক্রবর্তী, অচিন্ত্য গুপ্ত ও তরুণ রায়-সহ অন্যান্যরা।
উদ্ধারকারী মৎস্যজীবী অজয় দাস জানান, তিস্তার গেটের নিচ দিয়ে একটি হাতির ছানা ভেসে যাওয়ার খবর পেয়েই তারা নৌকা নিয়ে নদীতে বেরিয়ে পড়েন। প্রবল স্রোতে বারবার জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছিল শাবকটি। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গিয়ে তার সন্ধান মেলে। এরপর পাঁচজন মিলে নৌকা নিয়ে শাবকটির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে বন দফতরের হাতে তুলে দেন।
আরেক মৎস্যজীবী বিশ্বনাথ দাস জানান, জলের মধ্যে শাবকটি বারবার ডুবে যাচ্ছিল এবং ফের ভেসে উঠছিল। দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর সেটিকে দেখতে পান তারা। এরপর কোলে করে তুলে শাবকটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রেঞ্জ অফিসার নবাঙ্কুর ঘোষ জানান, মৎস্যজীবীদের দ্রুত তৎপরতার কারণেই হস্তিশাবকটি প্রাণে বেঁচে যায়। পরে বনকর্মীরা শাবকটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেন। বর্তমানে মা ও শাবক দু’জনেই সুস্থ রয়েছে এবং জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে।
সমাজসেবী মনোজ শর্মা ও পরিবেশপ্রেমী সংস্থার দ্বীপজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৎস্যজীবীরা যেভাবে হস্তিশাবকটিকে উদ্ধার করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের উৎসাহ দিতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন।





