শিলিগুড়ি: একশো বছরের পথচলা। একটি পুজোকে ঘিরে জমে থাকা অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের গল্প। মিত্র সম্মিলনীর দুর্গাপুজো এবার পা দিতে চলেছে শতবর্ষে। তাই এবারের আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শতবর্ষের এই বিশেষ আয়োজনে ফিরে দেখা হবে এক টুকরো পুরোনো শিলিগুড়িকে।
একসময় আজকের মতো ব্যস্ত ছিল না শিলিগুড়ির রাস্তা। শহরের সর্বত্র ছিল না গাড়ির ভিড়, ছিল না যানজটের চেনা ছবি। যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল গরুর গাড়ি। সেই সময় দূর-দূরান্তের চা-বাগান থেকে জমিদার ও উচ্চবিত্ত পরিবারের মানুষজন গরুর গাড়িতে চেপে আসতেন মিত্র সম্মেলনীর দুর্গাপুজো দেখতে।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হলেও পুজো প্রাঙ্গণে কমত না উৎসবের আবহ। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি থাকত নাটক। রাতভর সেই নাটক উপভোগ করার পর ভোরের আলো ফুটলে ফের গরুর গাড়িতেই বাড়ির পথে রওনা দিতেন দর্শনার্থীরা।
সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে শিলিগুড়ির চেহারা। গরুর গাড়ির জায়গা নিয়েছে দ্রুতগতির যানবাহন। শহরের রাস্তায় বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা, তৈরি হয়েছে ব্যস্ততা ও যানজট। পাল্টেছে মানুষের জীবনযাত্রাও। কিন্তু সময়ের এত পরিবর্তনের পরেও মিত্র সম্মিলনীর দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি আজও অমলিন।
শতবর্ষ উপলক্ষে সেই হারিয়ে যাওয়া সময়কেই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুজো কমিটি। সাবেকি রীতি-নীতি মেনেই পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি এবারের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে পুরোনো শিলিগুড়ির স্মৃতিকে ঘিরে বিশেষ পরিবেশনা।
মহালয়ার দিন শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন। পুজো প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের রাস্তা সাজিয়ে তোলা হবে পুরোনো শিলিগুড়ির বিভিন্ন ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন দিয়ে। সেই সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে শহরের এক সময়কার জীবনযাত্রা, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ছবি।
শতবর্ষের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দেখা যাবে টয় ট্রেনের মডেল।
আয়োজকদের ভাবনায়, প্রবীণ প্রজন্মের কাছে এই আয়োজন হয়ে উঠবে হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতিচারণ। আর নতুন প্রজন্মের কাছে পুরোনো শিলিগুড়িকে জানার এক সুযোগ।





