শিলিগুড়ি, ৩ নভেম্বরঃ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্পের অনুমোদন। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় আয়োজিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, পর্যটন, ক্রীড়া এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন। পাহাড়ে যানজট কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে পর্যটন মরশুমে পাহাড়ি রাস্তায় যানজটের চাপ কমাতে রোপওয়েটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। সাংসদ জানান, আগামী ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা পরিকাঠামোর ঘাটতি পূরণে এই মেডিক্যাল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু নতুন মেডিক্যাল কলেজ নয়, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক এবং শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলিরও মেরামতি, আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই হাসপাতালগুলির উপর পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের ঐতিহাসিক লেবং গ্রাউন্ডকে আধুনিক স্টেডিয়ামে উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে।
অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান মহাকাল মন্দিরের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের পর্যটন ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের পর রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগগুলি উত্তরবঙ্গকে আরও উন্নত, সংযুক্ত এবং পর্যটনবান্ধব অঞ্চলে পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।