জলপাইগুড়ি, ২৯ মেঃ দীর্ঘ ১০৪ বছরের জীবনের ইতি টানলেন উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত সারিন্দা বাদক তথা পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত লোকশিল্পী মঙ্গলা কান্তি রায়।
জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির ধওলাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলা কান্তি রায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির এক উজ্জ্বল মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জীবনের প্রায় আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সারিন্দা সুরে মুগ্ধ করেছেন মানুষকে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। সারিন্দা মাধ্যমে পাখির ডাক ও বিভিন্ন শব্দ ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
লোকসংস্কৃতিতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে কেন্দ্র সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে তার নাম ঘোষণা করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করেন। শতবর্ষ পেরিয়েও তার শিল্পচর্চা ও লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত একমাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
শুক্রবার গভীররাতে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। তার প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
অনেকেই মনে করছেন, তার প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।
