রাজগঞ্জ, ১৮ আগষ্টঃ স্ত্রীকে খুন, এর পর নিজেকেই শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা স্বামীর! ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ির ভোটপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিবাড়ির বাসিন্দা ভবতোষ বিশ্বাসের সঙ্গে রাজগঞ্জের বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের আমবাড়ির ভাটপাড়ার বাসিন্দা সোনালী বিশ্বাসের প্রায় ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয় বলে পরিবার সূত্রে খবর। অশান্তির কারণে কয়েকদিন আগে সোনালী বাপের বাড়িতে চলে আসেন।
সোমবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়িতে আসেন ভবতোষ। অভিযোগ, রাতে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন তিনি। এরপর সেখানেই বিষ খেয়ে নিজেকেও শেষ করতে যান।
তবে সেই সময় বিষয়টি জানতে পারেননি সোনালীর পরিবারের সদস্যরা। তারা মনে করেছিলেন, দু’জনেই হয়তো ভবতোষের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সোনালীর কোনও ফোন না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তখনই ছাদের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় সোনালীর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পাশেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন ভবতোষ।
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভোরের আলো থানার পুলিশ। সোনালীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ভবতোষকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র এবং বিষের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নমুনা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঠিক কী কারণে এই নৃশংস ঘটনা ঘটল, দাম্পত্য অশান্তির নেপথ্যে কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও কারণ জড়িয়ে রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
