শিলিগুড়ি, ২৩ জুলাইঃ জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যুকে ঘিরে সম্ভাব্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমে অভিযান চালালো পুলিশ।সকাল থেকেই পুলিশের দল পুরনিগমে পৌঁছে বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুরনিগমের রেকর্ড রুমে তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, রেকর্ড রুম সিল করে দেওয়া হতে পারে এবং সেখানে সংরক্ষিত বহু বছরের নথির পূর্ণাঙ্গ অডিটও করা হতে পারে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ১৯৫৬ সাল থেকে সংরক্ষিত জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা পুরনো রেজিস্টার, আবেদনপত্র, নিবন্ধন সংক্রান্ত রেকর্ড এবং সমস্ত নথি পরীক্ষা করছেন। তদন্তে জাল নথি, ভুয়ো নিবন্ধন অথবা নিয়ম বহির্ভূতভাবে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও ডাবগ্রাম দুই গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়েও তদন্তে গিয়েছিল পুলিশ।যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু জানা যায়নি।
রাজ্যে ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলার পুরসভা, পুরনিগম ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে তদন্ত এবং নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, পুলিশের কাছে নিশ্চয়ই কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পৌঁছেছে বলেই তারা পুরনিগমে এসে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী দাবি করেন, তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদান সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।আমাদের বোর্ডের আমলে কোনো বেআইনি কাজ বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।
যদিও এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব।গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
