ফুলবাড়ি, ১২ জুলাইঃ উত্তরকন্যায় বন্ধ চা-বাগান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মজুরি বকেয়া রাখলে জেল যেতে হবে -হুঁশিয়ারি শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের।
উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলির বর্তমান পরিস্থিতি, শ্রমিকদের সমস্যা এবং শ্রম দফতর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রবিবার উত্তরকন্যায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের নেতৃত্ব দেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, শ্রম দফতরের সচিব, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়, বিভিন্ন জেলার বিধায়ক, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, শ্রম কমিশনারেট ও চা পরিদপ্তরের আধিকারিকরা, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং বন্ধ চা-বাগানের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলির বর্তমান অবস্থা, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, পিএফ, গ্র্যাচুইটি, সামাজিক সুরক্ষা, বন্ধ চা-বাগান পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এবং শ্রমিকদের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানান, উত্তরবঙ্গে বর্তমানে ৩০টিরও বেশি চা-বাগান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু চা-বাগান বেআইনিভাবে চালানো হচ্ছে, আবার কিছু বাগান ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও মজুরি বকেয়া রেখে কোনও মালিক পার পাবেন না। শ্রমিকদের প্রাপ্য আটকে রাখলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে জেলেও যেতে হবে। সরকার এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
শ্রমমন্ত্রী আরও জানান, যেসব চা-বাগান মালিক বেআইনিভাবে বাগান বন্ধ রেখেছেন বা শ্রম আইন লঙ্ঘন করছেন, তাদের এক মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে জেলেও যেতে হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
